প্রবাসী দিবস কি? প্রবাসী দিবস কবে? জাতীয় প্রবাসী দিবসের পিছনের ইতিহাস, প্রবাসী দিবস কবে জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায় ইত্যাদি বিষয়ে জানুন।
প্রবাসী দিবস কি? প্রবাসী দিবস কবে? জাতীয় প্রবাসী দিবসের পিছনের ইতিহাস প্রিয় পাঠক ও প্রবাসী বন্ধুরা, আমাদের ওয়েবসাইট ‘প্রবাসীর গল্প’ এর পক্ষ থেকে আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আজকে আমরা আলোচনা করবো প্রবাসী দিবস সম্পর্কে।
প্রবাসী দিবস কবে, প্রবাসী দিবস কবে থেকে পালন করা হয়, প্রবাসী দিবস কবে জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়, প্রবাসী দিবসের পিছনের ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আজকের পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আশা করছি আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে প্রবাসী দিবস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন।
প্রবাসী দিবস : প্রবাসী বাংলাদেশীদের জাতীয় দিবস
দিন বদলের সাথে সাথে মানুষ তার ভাগ্য বদলের
চেষ্টা করে। সে চেষ্টায় কেউ সফল হয়, কেউবা ছিটকে পড়ে। তারপরও মানুষ আবারো ঘুরে দাঁড়ায়
লড়াই করে। সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই বর্তমান সময়ে মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
দেশের সীমানা পেরুনো এইসব ভাগ্যান্বেষী মানুষদেরকে বলা হয় প্রবাসী।
উচ্চশিক্ষার
জন্য কেউ প্রবাসী হচ্ছে, কেউ উন্নত জীবন ও পরিবেশের আশায় দেশের বাইরে বসবাসের উদ্দেশ্যে
প্রবাসী হচ্ছে, কেউবা কাজের খোঁজে আবার কেউবা ব্যাবসায়ীক প্রয়োজনে প্রবাসী হচ্ছে।
আরো পড়ুন: প্রবাসী অর্থ কি? প্রবাসী এর ইংরেজি এবং প্রবাসী নিয়ে বিস্তারিত
যে যে কারণেই প্রবাসী হোক না কেন আজকের সময়ে এসে দেশের এক বিপুল জনগোষ্ঠী প্রবাস-জীবন বেছে নিয়েছে। আর তাদের স্মরণে বাংলাদেশ সরকার একটা নির্দিষ্ট দিনকে প্রবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিনটি প্রবাসী বাংলাদেশীরা জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করবে। প্রবাসীদের জাতীয় দিবস হিসেবে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবাসী দিবস পালন করা হবে।
এখন আমরা এই প্রবাসী দিবসের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু:
ক. প্রবাসী দিবস কি?
খ.
প্রবাসী দিবস কবে
গ.
জাতীয় প্রবাসী দিবস কবে
ঘ.
প্রবাসী দিবস কবে জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়
ঙ.
প্রবাসী দিবস বাংলাদেশ এর ইতিহাস
চ.
প্রবাসী দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ছ.
প্রবাসী দিবস প্রবাসীদের কোনো উপকারে আসবে কি
জ.
উপসংহার
আরো পড়ুন: আপনি কি প্রবাসী, অভিবাসী নাকি শরণার্থী? জেনে নিন বিস্তারিত
প্রবাসী দিবস কি?
সৃষ্টির
শুরু থেকেই সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে নানাবিধ
আচার অনুষ্ঠানে মিলিত হয়ে আসছে। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে সেইসব আচার অনুষ্ঠান
আরো উন্নত ও আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় জন্ম নিয়েছে বিভিন্ন
দিবসের।
মানুষের আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ, পরস্পরের নিকটে আসা, নিজেদের সম্পর্কের উন্নয়ন, নিজেদের খুশি কিংবা বেদনাকে শেয়ার করাসহ সমাজের কাছে রাষ্ট্রের কাছে বা বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নিজেদের প্রাপ্য বুঝে নিতেও দিবসের গুরত্ব অপরিসীম।
সারাবিশ্বের
ন্যায় বাংলাদেশেও রয়েছে নানান দিবস। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের
মানুষের নিজস্ব দিবসও রয়েছে অনেক। যেমন স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ, বিজয়
দিবস ইত্যাদি।
তেমনি
করে এক কোটিরও বেশি প্রবাসীদের জন্য একটা নিজস্ব দিবস হলো প্রবাসী দিবস। প্রবাসী দিবস
যেমন প্রবাসীদের জন্য একটি নিজস্ব দিবস, তেমনি সমগ্র দেশবাসীর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই প্রবাসী দিবসকে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রবাসী দিবস কবে
বহুদিনের
প্রচার ও প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে অবশেষে ৩০ ডিসেম্বর তারিখটিকে প্রবাসী দিবস হিসেবে
ঘোষণা করা হয়েছে। বেশ কিছু বছর ধরে একটি বে-সরকারি সংস্থা ৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী ‘বাংলাদেশী
দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরাও
৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশী দিবস পালন করে আসছিল। এবং সে কারণেই ৩০ ডিসেম্বর তারিখটি
প্রবাসী দিবস হিসেবে প্রচার পায়।
জাতীয় প্রবাসী দিবস কবে
অবশেষে
এই ৩০ ডিসেম্বরকেই বাংলাদেশ সরকার জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন থেকে
প্রতিবছর ৩০ ডিসেম্বরই হলো জাতীয় প্রবাসী দিবস যার সংক্ষিপ্ত রূপ প্রবাসী দিবস। অর্থাৎ
প্রবাসী দিবস আর জাতীয় প্রবাসী দিবস মূলত একই দিবস, একই দিন।
প্রবাসী দিবস কবে জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়
২০২৩
সালের ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রীসভার বৈঠকে ৩০ ডিসেম্বরকে জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি
দেয়া হয়। এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রবাসীদের জন্য অবশ্যই গৌরবের একটি বিষয়। বিভিন্ন
দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে।
প্রবাসী দিবস বাংলাদেশ এর ইতিহাস
স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটি নামের একটি সংগঠন ২০০৫ সাল থেকে প্রবাসী দিবসের জন্য কাজ করতে শুরু করে বলে জানা যায়। ২০০৫ সালে তারা এই দিবসটির নাম দেন ‘এনআরবি ডে’। এবং সেসময় এ সংস্থার নেতৃবৃন্দ তৎকালীন সরকারের কাছে প্রবাসী দিবস পালনের দাবী জানান, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
কিন্তু
সরকার সেসময় তাতে সাড়া দেয়নি। তারপর কেটে গেছে প্রায় ১২ বছর। ১২ বছর পর ২০১৭ সালে এসে
স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারিভাবে প্রবাসী দিবস
উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ছয় বছর ধরে তারা ৩০ ডিসেম্বরকে প্রবাসী দিবস হিসেবে পালন
করে আসছিল। সুত্র: কালের কণ্ঠ
এর
মধ্যে নিউইয়র্কে ২০১৮ সালে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতির উদ্যোগে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর
২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষীত
বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট ডে অবশ্য নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাশেীদের জন্য স্থানীয় স্বীকৃতি
হিসেবে পালন করা হয়।
সেসময়
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ করে প্রবাসীদের জন্য
একটি প্রবাসী দিবস তথা জাতীয় প্রবাসী দিবস ঘোষণার দাবী জানানো হয়। সুত্র: জাগোনিউজ
অবশেষে
২০২৩ এর শেষে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ৩০ ডিসেম্বরকে জাতীয় প্রবাসী দিবস হিসেবে
ঘোষণা করে। প্রিয় পাঠক আশা করি প্রবাসী দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা আপনারা
পেয়েছেন।
প্রবাসী দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
প্রবাসী দিবসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ১ কোটিরও বেশি প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের সংযুক্ত করা। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া। রেমিটেন্স বাড়ানো। প্রবাসীদের সেবার মান বাড়ানো। নতুন নতুন সেবা প্রদান ও যেসব সেবা চলমান সে বিষয়ে তাদের জানানো।
এছাড়া
বিমানবন্দরে প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা। তাদের সেবায় বিমানবন্দরে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র
খোলা ইত্যাদি বিষয় প্রবাসী দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
প্রবাসী দিবস প্রবাসীদের কোনো উপকারে আসবে কি
অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে প্রবাসী দিবস প্রবাসীদের কী উপকারে আসবে? হ্যাঁ, এ প্রশ্নের উত্তর জানা খুবই জরুরী। নিচে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করছি।
সবচেয়ে
গৌরবের বিষয় হলো প্রবাসীরা নিজেদের জন্য সরকার স্বীকৃত একটি দিবস পেলো! এ দিবসটি বাংলাদেশী
প্রবাসীদের একান্ত নিজের দিবস! এই দিনে সারা বিশ্বের প্রতিটি বাংলাদেশী দূতাবাস অনুষ্ঠানের
আয়োজন করবে। প্রবাসীদের সম্মান জানাবে, তাদের সমস্যার কথা শুনবে এবং সমাধানের উদ্যোগ
নেবে।
তাছাড়া
সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় সরকারিভাবে প্রবাসী দিবস উদযাপন করা হবে। প্রবাসীদের বিভিন্ন
সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নানা আলোচনা ও পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিমানবন্দরে
প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ হবে। তাদের যথাযথ সম্মান করা হবে। প্রবাসী দিবসে যারা
বিদেশ থেকে দেশে আসবে সেদিন বিমানবন্দরে প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো
হবে।
প্রবাসী
দিবস প্রবাসী বাংলাশেীদের জন্য আনন্দের এবং গৌরবের। কারণ তারা সরকার স্বীকৃত একপি প্লাটফর্ম
পেলেন যা শুধুই প্রবাসীদের জন্য। সুত্র: সমকাল
প্রবাসী দিবস নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর
প্রবাসী দিবস কত সালে সরকারি স্বীকৃতি পায়?
২০২৩
সালের ২৭ ডিসেম্বর সরকার প্রবাসী দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়।
জাতীয় প্রবাসী দিবস কত তারিখ?
৩০
ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় প্রবাসী দিবস।
প্রবাসী দিবস ৩০ ডিসেম্বর কেন?
৩০
ডিসেম্বর প্রবাসী দিবস ঘোষণার কারণ হলো বছরের এই শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশে ছুটি থাকে।
এবং প্রবাসীরা এই সময়ে কিছুটা সময় পান, তাদের কাজ কম থাকে। ফলে এই সময়ে তারা প্রবাসী
দিবস উদযাপনের সময় পাবেন।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক ও প্রবাসী বন্ধুরা, আশা করছি আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে আপনারা প্রবাসী দিবস, জাতীয় প্রবাসী দিবস কি, প্রবাসী দিবসের ইতিহাস, প্রবাসী দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, প্রবাসী দিবসের উপকার ও প্রবাসী দিবস সম্পর্কে সমস্ত বিষয়ে একটা পরিষ্কার ধারণা লাভ করেছেন। প্রবাসীদের নিয়ে এ ধরনের সমস্ত বিষয়ে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ‘প্রবাসীর গল্প’ ভিজিট করুন। ‘প্রবাসীর গল্প’ আপনাদের কথা বলে, এটা প্রবাসীদের আপন জায়গা। মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পাশে থাকবেন।


মন্তব্যসমূহ