আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানবো প্রতি বছর দেশ ছেড়ে যারা বিদেশে পাড়ি জমান তাদের মধ্যে কারা প্রবাসী, কারা অভিবাসী আর কারা শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হন।
আপনি কি প্রবাসী, অভিবাসী নাকি শরণার্থী
প্রবাসী
অর্থ সেইসব মানুষ যারা নিজের দেশ ছেড়ে কাজের উদ্দেশ্যে বা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে
পারিবারিক উন্নতির জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন এবং ০১ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন।
আরো সহজ করে বললে, আপনি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন বা যে দেশের নাগরিক সেই দেশ ছেড়ে
কোনো উদ্দেশ্যে যখন দেশের বাইরে চলে যাবেন তখনই সেই দেশের (নিজ) প্রেক্ষিতে আপনাকে
প্রবাসী বলা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- যারা বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন এবং অবস্থান করছেন তারাই
প্রবাসী তথা প্রবাসী বাঙালি। প্রবাসীরা মূলত স্বেচ্ছায় নিজের উন্নতির
আশায় দেশের বাইরে যান।
তাছাড়া
পড়াশোনার জন্য অনেকেই ভিনদেশে যান। এবং বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রী অর্জনের
লক্ষ্যে বছরের পর বছর অবস্থান করেন। সেক্ষেত্রে তারাও প্রবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সোজা কথায় আপনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং পড়াশোনা বা কাজের জন্য অথবা ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে দেশের বাইরে ০১ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করেন তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আপনি প্রবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন। প্রবাসী সম্পর্কে আরো জানতে পড়ুন প্রবাসী অর্থ কি? প্রবাসী এর ইংরেজি এবং প্রবাসী নিয়ে বিস্তারিত জানুন
অভিবাসী কাকে বলে
অভিবাসী
শব্দটি আপনি বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হতে দেখে থাকতে পারেন। এখানে আমরা অভিবাসী কাকে
বলে সে বিষয়ে জানবো।
সেসব মানুষকে সাধারণত অভিবাসী বলা হয়ে থাকে যারা কাজের প্রয়োজনে বা উন্নত জীবনের খোঁজে কিংবা তুলনামূলক ভালো কর্মসংস্থানের আশায় স্থান ত্যাগ করে। এ ধরনের মানুষেরা নিজ দেশ ছাড়ার পর বছরের কিছু সময় এক দেশে আবার বছরের অন্য একটা সময় আরেক দেশে কাটাতে পারে। প্রবাসীর জন্য যেমন দেশের বাইরে ০১ বছর থাকার ন্যূনতম সময় ধরা হয়ে থাকে অভিবাসীর ক্ষেত্রে সেটা নাও হতে পারে। অভিবাসীরা বছরের কিছু সময় দেশের বাইরে থেকে দেশে ফিরে পুনরায় বিদেশ গমন করে থাকেন। দেশের বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্য তাদের থাকে না। অভিবাসীরাও স্বেচ্ছায় বিদেশ গমন করে থাকে।
শরণার্থী কাকে বলে? who is refugee, refugee meaning in Bengali
শরণার্থী
পরিভাষাটি বহুল ব্যবহৃত এবং পরিচিত। আপনারা সকলেই শরণার্থী বিষয়ে অনেক আলাপ অনলাইন
এবং অফলাইনে শুনে থাকবেন। শরণার্থী শব্দের ইংরেজি হলো রিফিউজি বা Refugee। যেসকল মানুষ
নিজ দেশ ত্যাগ করে বিদেশে যেতে বাধ্য হন তাদেরকে শরণার্থী বলা হয়ে থাকে। যুদ্ধাবস্থা
বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে জীবন রক্ষার তাগিদে যারা নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি
জমান তাদেরকে শরনার্থী বা রিফিউজি বলে।
রিফিউজি তথা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী শরনার্থীদের অস্থায়ীভাবে বসবাস ও তাদের পুনর্বাসন করা আশ্রয়দাতা দেশের জন্য কর্তব্য। জাতিসংঘের রিফিউজি বিষয়ক হাইকমিশনের ওয়েবসাইট থেকে আরো বিস্তারিত জানতে পারেন।
যে
সকল কারণে একজন মানুষ শরণার্থী হয়ে থাকে তা নিচে তুলে ধরছি:
- যুদ্ধ: যুদ্ধের সময় বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য।
- দুর্যোগ: ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষ অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে থাকে।
- রাজনীতি: রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিপীড়ন বা বিদ্রোহের কারণেও মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়তে পারে।
- সহিংসতা: ধর্মীয় নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্যেও মানুষ নিজ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
রিফিউজি বা শরণার্থীরা তাদের পরিবার ও জীবিকা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়। ফলে নতুন পরিবেশে নিজেদেরকে মানিয়ে নেবার সংকট যেমন তৈরি হয় তেমনি খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে পড়ে।
সারাবিশ্বে বহু সংস্থা শরণার্থী-সমস্যা সমাধানে কাজ করলেও এই সংকটের এখনো তেমন উল্লেখযোগ্য উত্তরণ ঘটেনি।
প্রবাসী
ও অভিবাসীর মধ্যে পার্থক্য
প্রবাসী
ও অভিবাসীর মধ্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। বিদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রবাসীর যেমন ০১
বছর সময়ের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, অভিবাসীর ক্ষেত্রে সময়ের তেমন বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া
অভিবাসী এবং প্রবাসী পরিভাষা দুটি মূলত নিজ দেশ এবং অবস্থানরত দেশের প্রেক্ষিতে ব্যবহৃত
হয়ে থাকে। বিষয়টি উদাহরণ দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
মনে করুন, আপনি বাংলাদেশের নাগরিক। আপনি কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে মালেশিয়ায় গেছেন। এবার বাংলাদেশীরা আপনাকে বলবে প্রবাসী আর মালেশিয়ানরা আপনাকে বলবে অভিবাসী। আবার বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে আপনি যখন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকায় যাবেন তখন বাংলাদেশীদের জন্য আপনি প্রবাসী আর আমেরিকানদের কাছে আপনি অভিবাসী। আশা করছি বষিয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে আপনাদের কাছে।
কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর
প্রশ্ন: who is refugee রিফিউজি কারা?
উত্তর: যুদ্ধাবস্থা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে জীবন রক্ষার তাগিদে যারা নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান তাদেরকে শরনার্থী বা রিফিউজি বলে। এদেরকে উদ্বাস্তু বলেও অভিহিত করা হয়।
প্রশ্ন: rohingya refugee কারা?
উত্তর: মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে rohingya refugee বলা হয়ে থাকে। মিয়ানমারের যুদ্ধাবস্থার শিকার এসব জনগণ এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
প্রশ্ন: অভিবাসী দিবস কবে?
উত্তর: প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘভুক্ত প্রতিটি দেশ দিবসটি পালন করে থাকে। ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে অভিবাসী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রশ্ন: অভিবাসন কি?
উত্তর: অভিবাসন হলো স্থান বদল। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি বা পরিবার যখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বা এক দেশ থেকে আরেক দেশে বসবাসের জন্য স্থানান্তরিত হয় তখন তাকে অভিবাসন বলে।
প্রশ্ন: অভিবাসী ইংরেজি কি?
উত্তর: অভিবাসী এর ইংরেজি হলো- Immigrant.
প্রশ্ন: অভিবাসন ইংরেজি কি?
উত্তর: অভিবাস এর ইংরেজি হলো- Migration.
উপসংহার
আজকের এই পোস্টটিতে আমরা প্রবাসী, অভিবাসী, শরণার্থী বা রিফিউজি তথা উদ্বাস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছি। আশা করছি এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পেরেছেন আপনি কি প্রবাসী, অভিবাসী নাকি শরনার্থী। প্রবাসী কারা, অভিবাসী কারা, শরণার্থী কারা, প্রবাসী ও অভিবাসীর মধ্যে পার্থক্য কি এসব বিষয়ে একটা পরিষ্কার ধারনা আপনাদের দিতে পারলেই এই লেখটি সার্থক হবে। প্রবাসীদের নিয়ে এ ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের প্রবাসী প্রসঙ্গে মেনুতে ক্লিক করবেন। অবশ্যই কমেন্ট করে আপনার মতামত ও যেকোনো জিজ্ঞাসা থাকলে জানাবেন। ভালো লাগলে লেখাটি শেয়ার করবেন। আবারো শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে, পাশে থাকবেন।



মন্তব্যসমূহ